Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বিবরণ

রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বিবরণ

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নির্বাচিত ব্যক্তিকে নির্ধারিত সাংবিধানিক শপথ নিতে হয়। রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা। এ সময় জাতীয় সংসদ ভবন বা নির্ধারিত স্থানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলে রাষ্ট্রপতির শপথের বিষয়টি নির্ধারিত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নির্বাচিত ব্যক্তিকে সংবিধান রক্ষা, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান এবং জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করতে হয়। শপথের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেন।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির শপথের ক্ষেত্রে সংসদের স্পিকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে বা দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন বলে জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন ও জাতীয় সংসদ-সংশ্লিষ্ট এলাকায় আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতে পারেন। শপথ গ্রহণের পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে তাঁর কার্যক্রম শুরু হবে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সংবিধান অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দণ্ড মওকুফ বা পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

তবে রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বিধান রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব অন্যান্য রাষ্ট্রপতিশাসিত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের তুলনায় ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি রাষ্ট্রের ঐক্য, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের এই আনুষ্ঠানিকতা শুধু একটি শপথ অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। একজন রাষ্ট্রপতি তাঁর শপথের মাধ্যমে সংবিধান ও দেশের জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন।

রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব হস্তান্তর বা নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়। তাই এ ধরনের অনুষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের মাধ্যমে শপথ পাঠ করানোর বিষয়টিও সংবিধাননির্ধারিত দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতার অংশ।