Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ-গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ-গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ, গুম, নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন এ আবেদন করে।

এর আগে শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানসহ র‍্যাব ও পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে।

তদন্তে যেসব অভিযোগের তথ্য এসেছে

ট্রাইব্যুনালের তদন্তে বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, এ ঘটনায় নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম এসেছে।

তদন্তে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তাদের মধ্যে সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম রয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গুমের পর সালাহউদ্দিন আহমদকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

পরে তাকে কীভাবে ভারতে পাঠানো বা পাচার করা হয়েছিল, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

সালাহউদ্দিনের জবানবন্দি নেওয়ার উদ্যোগ

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদকে টিএফআই সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, গুমের পর সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতে পাঠানোর সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এরই মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে মৌখিক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এ ছাড়া তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা ও আইনজীবী সোহেলের জবানবন্দিতেও সালাহউদ্দিন আহমদকে টিএফআই সেলে আটকে রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

২০১৫ সালে নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘদিন পর ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের সন্ধান পাওয়া যায়। তাকে পরে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই ঘটনার তদন্ত বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।