Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

সব সরকারি দপ্তরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জরুরি নির্দেশনা, জারি পরিপত্র

সব সরকারি দপ্তরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জরুরি নির্দেশনা, জারি পরিপত্র

দেশের সরকারি দপ্তরগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সরকারি দপ্তরের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণের লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) জারি করা ওই পরিপত্রে সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ থেকে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। অফিস ভবন, কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, লিফট, আলোসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয়ও কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অন্যতম অগ্রাধিকার। বাংলাদেশেও সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সরকারি ভবনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপন ও এর ব্যবহার বাড়ানো হলে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারি দপ্তরে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির নির্দেশনার মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ তৈরি হতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ সৌরশক্তি থেকে পূরণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। পরবর্তীতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়তে পারে।

এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমানোর বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব পাচ্ছে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ভবনের ছাদগুলো সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি ভবনের ছাদে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সেখানে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে দিনের বেলায় অফিসের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হতে পারে।

তবে এই উদ্যোগ সফল করতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সৌর প্যানেল স্থাপন করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব প্রকল্পকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই করতে হবে।

সরকারের নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। প্রচলিত বিদ্যুতের পাশাপাশি সৌরশক্তিকে সরকারি অফিসের নিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হলে জ্বালানি সাশ্রয়, সরকারি ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, সরকারি দপ্তরে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর এই উদ্যোগকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিপত্রের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সরকারি ভবনগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করার পথ আরও প্রশস্ত হবে।