Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

সৌরবিদ্যুতে ব্যাটারি চার্জ হলেই রেজিস্ট্রেশন পাবে রিকশা

সৌরবিদ্যুতে ব্যাটারি চার্জ হলেই রেজিস্ট্রেশন পাবে রিকশা

ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে রেজিস্ট্রেশন পেতে হলে এসব রিকশার ব্যাটারি সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করা হলে সংশ্লিষ্ট রিকশাকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করতেই রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। তবে রিকশার ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। কোনো রিকশার ব্যাটারি সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে চার্জ করা হলে সেটি রেজিস্ট্রেশনের যোগ্য হবে না।

সরকারের এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো। বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জের জন্য বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যাটারি রিকশার চলাচল, নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় রেজিস্ট্রেশনের শর্ত হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি যুক্ত হলে ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য আলাদা একটি পরিবেশবান্ধব চার্জিং ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। এর ফলে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রিকশার মালিক ও চালকদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ব্যাটারিচালিত রিকশা বাংলাদেশের শহর ও শহরতলির অন্যতম জনপ্রিয় স্বল্পদূরত্বের যানবাহন। তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের একটি বড় অংশ এসব রিকশার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব যানবাহনের বিস্তার, সড়কে চলাচল, চার্জিং ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রিকশাগুলোর নিবন্ধন, মালিকানা, চলাচল এবং চার্জিং ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হতে পারে। এতে কোন রিকশা বৈধভাবে চলাচল করছে এবং কোনটি নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে, তা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের শর্ত থাকায় সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চার্জিং অবকাঠামো, সৌরবিদ্যুতের সহজলভ্যতা, রিকশা মালিকদের অতিরিক্ত ব্যয় এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য পর্যাপ্ত সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক চার্জিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।

এ ছাড়া রিকশাচালকদের জীবিকা ও যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর নতুন নীতির প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। রেজিস্ট্রেশনের শর্ত পূরণে অতিরিক্ত ব্যয় হলে তার প্রভাব চালক ও মালিকদের ওপর পড়তে পারে। ফলে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জন্য বাস্তবসম্মত ও সহজ নিবন্ধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণায় আপাতত স্পষ্ট হয়েছে, সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশাকে পুরোপুরি অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে না দিয়ে একটি নিবন্ধন কাঠামোর মধ্যে আনতে চাইছে। আর সেই নিবন্ধনের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।