Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

উপজেলাতেই মিলবে চোখের উন্নত চিকিৎসা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

উপজেলাতেই মিলবে চোখের উন্নত চিকিৎসা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের উপজেলা পর্যায়েই উন্নত ও আধুনিক চোখের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রাজধানী বা জেলা শহরমুখী না হয়ে মানুষ যেন নিজ নিজ উপজেলা থেকেই প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে শুধু বড় শহর বা জেলা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে চোখের চিকিৎসার জন্য অনেক দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেই প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চোখের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সময়মতো না হলে রোগীর দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে সহজ চিকিৎসার মাধ্যমে জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা, রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চক্ষু চিকিৎসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আধুনিক চক্ষু পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত জনবল পর্যায়ক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়েই রোগীদের প্রাথমিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু যন্ত্রপাতি সরবরাহ করলেই হবে না; সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। তাই চক্ষু চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের জেলা বা রাজধানীর হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।

গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য এ উদ্যোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অনেক মানুষ আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে দূরের শহরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন না। আবার যাতায়াত ব্যয় ও সময়ের কারণে অনেকে চিকিৎসা করানো থেকে বিরত থাকেন। উপজেলা পর্যায়ে উন্নত চক্ষু চিকিৎসা সহজলভ্য হলে এসব মানুষের জন্য চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ বাড়বে।

চক্ষু চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের চোখের সমস্যা, ছানি, গ্লুকোমা, চোখের সংক্রমণ এবং ডায়াবেটিসজনিত চোখের জটিলতার মতো সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে নিয়মিত পরীক্ষা প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষদের জন্য নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করা গেলে অনেক জটিলতা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে দৃষ্টিশক্তিজনিত বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কম নয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা শেষ পর্যায়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত স্ক্রিনিং ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে রোগ শনাক্তের হার বাড়বে এবং গুরুতর অবস্থায় পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীদের চক্ষু পরীক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে শিশু-কিশোরদের চোখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও কার্যকর করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব হবে। চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত সেবাও ধীরে ধীরে উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম সফল করতে হলে নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিতি, পর্যাপ্ত ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ, রেফারেল ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার। জটিল রোগীদের জেলা বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ক্ষেত্রে দ্রুত ও সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা থাকাও জরুরি।

একই সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপনের পর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ জনবল বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নিয়মিত ব্যবহার করা যায় না। তাই অবকাঠামোর পাশাপাশি জনবল ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

উপজেলা পর্যায়ে উন্নত চক্ষু চিকিৎসা চালু হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শহর ও গ্রামের মানুষের মধ্যে চিকিৎসা সুবিধার যে পার্থক্য রয়েছে, তা কমিয়ে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকেও মানসম্মত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আধুনিক চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা গ্রহণ আরও সহজ হবে। দূরের শহরে না গিয়ে নিজ উপজেলা থেকেই চোখের রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ উদ্যোগের সফলতার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।