Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

যেকোনো সময় ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

যেকোনো সময় ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো সময় ভারত সফরে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। তার বক্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে সফরের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঘোষণা না হলেও প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ভারত সফরে যেতে পারেন। তবে সফরের তারিখ, কর্মসূচি কিংবা সফরের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারত ভৌগোলিকভাবে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নানা বিষয় রয়েছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, পানি বণ্টন, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না।’ তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে বাস্তবতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দেখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতে পারে বলেও তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এর ফলে ভারত সফরের বিষয়টি কিছু সময়ের জন্য আড়ালে চলে গেলেও বর্তমানে নতুন করে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেও সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সফরের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে বিমসটেকের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের গুরুত্ব রয়েছে। বিমসটেক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ বর্তমানে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে। ফলে সভাপতির দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও বৈঠক বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু অমীমাংসিত বিষয়ও রয়েছে, যেগুলো নিয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা হয়ে থাকে। ফলে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর হলে এসব বিষয়ে আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত সরকারের আমন্ত্রণ রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় সফরে যেতে পারেন। তাই সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ও সময়সূচি চূড়ান্ত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরটি হলে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। ফলে সফরের সময়সূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এটিকে সম্ভাব্য সফর হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারত সরকারের আমন্ত্রণ এবং বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বের কারণে সফরটি হলে তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।