যশোরের চৌগাছায় সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে হাফেজ নাজমুল ইসলাম (৩৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ব্রিজের নিচে এ ঘটনা ঘটে।
আটক হাফেজ নাজমুল ইসলাম খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আবু সাঈদ শেখের ছেলে। তিনি যশোর শহরের মোল্লাপাড়া এলাকার হাফিজিয়া বায়তুল মামুন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা ইমন হোসেনের অভিযোগ, তার সাত বছর বয়সী ভাতিজা ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণপুর এলাকায় তাদের গ্রামের বাড়িতে আসেন। পরে সন্ধ্যার দিকে চটপটি খাওয়ানোর কথা বলে শিশুটিকে নারায়ণপুর কপোতাক্ষ নদের ব্রিজের নিচে নিয়ে যান।
চাচার দাবি, সেখানে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন এবং তাকে গণপিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এর আগেও ওই শিক্ষক শিশুটির সঙ্গে একই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছেন। শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনূর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।