যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর বহুল আলোচিত কূটনৈতিক সংলাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি না বসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে পারেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকির পরই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়। বিশেষ করে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ওই আলোচনায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করা হয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পন্ন করেছেন। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা সরাসরি এক টেবিলে বসবেন না। পরিবর্তে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের বিশেষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করে পরোক্ষ সংলাপ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে উভয় পক্ষই এখন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত ইরানকে আলোচনায় তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলেও মনে করছেন তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের ধারণা। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি, তবুও পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় শুরু হতে যাওয়া এই পরোক্ষ সংলাপকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।