Loading...

  • 26 Jul, 2026

বহুবিবাহকে মনের খায়েশ পূরণের অস্ত্রে বানানো যাবে না’—শায়খ আহমাদুল্লাহ

বহুবিবাহকে মনের খায়েশ পূরণের অস্ত্রে বানানো যাবে না’—শায়খ আহমাদুল্লাহ

ইসলামে বহুবিবাহের বিধান, এর শর্ত এবং এ বিষয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ইসলাম একাধিক বিয়ের অনুমতি দিলেও এটি কোনোভাবেই ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশি, ছেলেখেলা বা মনের খায়েশ পূরণের মাধ্যম হতে পারে না। যারা এমনটি করেন, তারা শুধু ইসলামের বিধানকে প্রশ্নবিদ্ধই করেন না, বরং আল্লাহর কাছেও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে পারেন।

গত ৯ মে তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘একাধিক বিয়ে করে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পারবেন?’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে একজন পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও এর সঙ্গে অত্যন্ত কঠোর কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, সব স্ত্রীর ভরণপোষণ, বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় অধিকার নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক স্ত্রীর প্রতি সমান ইনসাফ ও ন্যায়বিচার করার সক্ষমতা থাকতে হবে।

তিনি পবিত্র কুরআনের নির্দেশনার আলোকে বলেন, যদি কারও আশঙ্কা থাকে যে তিনি একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ন্যায়বিচার করতে পারবেন না বা একজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে অন্যজনের প্রতি অবিচার করবেন, তাহলে তার জন্য একটি বিয়েই যথেষ্ট। এ ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাজের বর্তমান বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কয়েক দশক আগেও একাধিক বিয়ের ঘটনা সমাজে তেমন আলোচনার বিষয় ছিল না। কিন্তু বর্তমানে কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপরিপক্ব আচরণের কারণে বহুবিবাহ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসলামের বিভিন্ন বিধানকে বিতর্কিত ও হাস্যকর হিসেবে উপস্থাপনেরও চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “বহুবিবাহকে কোনোভাবেই ছেলেখেলা, তামাশা বা মনের খায়েশ পূরণের অস্ত্রে পরিণত করা যাবে না।” যারা এমন মানসিকতা নিয়ে একাধিক বিয়ে করেন, তারা নিজেদের আচরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন করেন এবং সমাজে দ্বীনের বিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলেন।

আলোচনায় তিনি আরও বলেন, ইসলামে বহুবিবাহের বিধান মানুষের বাস্তব প্রয়োজন ও সামাজিক কল্যাণ বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো স্ত্রী দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণে দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে বা বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চরিত্র রক্ষা এবং সমাজে অনৈতিকতা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ের সুযোগ রেখেছে।

সবশেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আল্লাহ তাআলার বিধান মানুষের কাছে সবসময় সহজে বোধগম্য নাও হতে পারে, কিন্তু তা মানুষের কল্যাণের জন্যই নির্ধারিত। তাই ইসলামের কোনো বিধানকে অবজ্ঞা করা বা ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমে তা মানুষের হাসির পাত্রে পরিণত করা থেকে মুসলমানদের বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।