রাজধানীর কলাবাগানে নিজ বাসা থেকে নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের (৭১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে কলাবাগানের ১৮৮ গ্রিন রোডের বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কলাবাগান থানা পুলিশ জানিয়েছে, সকালে ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের মেয়ে তাকে বাসার ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে বলা হয়েছে, ধীরেন্দ্র কুমার রায় তার মেয়ের ঘুমের সময় এ ঘটনা ঘটান। ঘটনার সময় তার স্ত্রী দীপালি রায়, যিনি একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা, কর্মস্থলে ছিলেন। অন্যদিকে মেয়ে তখন বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন।
পুলিশ ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধীরেন্দ্র কুমার রায় দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তার মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে চিকিৎসাও চলছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে তিনি মানসিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। দীর্ঘদিনের মানসিক সমস্যার কারণেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানা গেছে, ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের দুই ভাইও এর আগে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন। পারিবারিক ইতিহাস ও তার দীর্ঘদিনের মানসিক চিকিৎসার বিষয়টিও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
ধীরেন্দ্র কুমার রায় নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীতে নিজ বাসা থেকে সাবেক এই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার বিষয়টি বিবেচনা করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের পর হাসপাতাল ও পুলিশ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে বিষণ্নতা ও অন্যান্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণে পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। একাকীত্ব, দীর্ঘস্থায়ী হতাশা, ঘুমের সমস্যা, আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন বা নিজের ক্ষতি করার ইঙ্গিত দেখা দিলে দ্রুত পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি।
ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চিকিৎসার মধ্যে ছিলেন। তার দুই ভাইয়ের আত্মহত্যার ইতিহাসও রয়েছে। এসব বিষয় তার মানসিক অবস্থার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও পরিবারের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করছে।
ঘটনাটি রাজধানীতে বয়স্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সহায়তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাকীত্ব, শারীরিক অসুস্থতা, অবসর-পরবর্তী পরিবর্তন এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ অনেকের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে পরিবারের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হচ্ছে না।
কলাবাগান থানার এসআই আতিকুর রহমান জানান, পরিবারের তথ্য অনুযায়ী ধীরেন্দ্র কুমার রায় দীর্ঘদিন বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং ২০২৫ সাল থেকে তার মানসিক চিকিৎসা চলছিল। তার দুই ভাইয়েরও আত্মহত্যায় মৃত্যু হয়েছিল বলে পরিবার জানিয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।