পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের অস্বচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে আর্থিক সংকটের কারণে বন্ধ না হয়, সে জন্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক। উপকূলীয় এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নুরুল হক এ উদ্যোগের কথা জানান। সেখানে তিনি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার অস্বচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি সহায়তার বার্তা দেন। কোনো শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যায় পড়লে বিষয়টি তাকে অথবা তার প্রতিনিধিদের জানাতে আহ্বান জানান তিনি।
নুরুল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার কোনো অস্বচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা আর্থিক সংকটের কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো যাবে। এ ক্ষেত্রে তার প্রতিনিধি আবু নাঈমের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য একটি মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ উচ্চশিক্ষা কিংবা নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। শিক্ষা ব্যয়, বই-খাতা, যাতায়াত, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে মেধা থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ধরনের বাস্তবতায় নুরুল হকের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণাটি প্রকাশের পর স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, আর্থিক সংকটে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে ঝরে পড়ার হার কমানোর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণও বাড়ানো সম্ভব।
শিক্ষার সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা তাদের শিক্ষাজীবন ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারের আয় কম হলেও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন শুধু অর্থের অভাবে বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা থেকে ছিটকে না পড়ে—এমন উদ্যোগ তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হতে পারে।
গলাচিপা ও দশমিনা পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপজেলা। এসব অঞ্চলের অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা, শ্রম ও বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক পেশার ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক পরিবারের আয়ও স্থায়ী নয়। ফলে সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
নুরুল হকের ঘোষণায় মূলত এমন পরিবারগুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী আর্থিক সমস্যার কারণে পড়াশোনা বন্ধ করার পরিস্থিতিতে পড়লে বিষয়টি জানালে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি, শিক্ষা সহায়তা, বই-খাতা সরবরাহ, যাতায়াত ব্যয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তাদের শিক্ষাজীবন টিকিয়ে রাখা সহজ হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে এ ধরনের সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘোষিত উদ্যোগটি কেবল তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মেধাবী ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সহায়তার একটি কার্যকর কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। এতে গলাচিপা ও দশমিনার দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ হতে পারে।
নুরুল হকের এই ঘোষণাকে তাই শুধু ব্যক্তিগত সহায়তার প্রতিশ্রুতি হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধরে রাখার একটি উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন স্থানীয়রা। আর্থিক সংকটে থাকা কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যাতে ঝরে না পড়ে এবং নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে—এটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।