ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ২৭ আগস্ট থেকে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অধিবেশন নির্বিঘ্নে পরিচালনা এবং সংসদ ভবন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৬ আগস্ট রাত ১২টা থেকে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জাতীয় সংসদ ভবন ও সংলগ্ন নির্ধারিত এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং অন্যান্য ক্ষতিকর বা দূষণীয় দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত এই নিষেধাজ্ঞা জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক বিস্তৃত এলাকায় কার্যকর হবে। এর আওতায় ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলা মোটর ক্রসিং পর্যন্ত এলাকা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলা মোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা, পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট এবং মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত এলাকাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
এ ছাড়া রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন ৯এম ডিভিশন ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত এবং জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা ও এর ভেতরের সব রাস্তা ও গলিপথেও একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসদ ভবন এলাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদ দেশের আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। তাই অধিবেশন চলাকালে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়ে থাকে। এবারের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জারি করা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে জনসমাগম ও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর নির্ধারিত এলাকায় কেউ অস্ত্র, বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর দ্রব্য বহন করতে পারবেন না। একইভাবে অনুমতি ছাড়া কোনো সভা, মিছিল, শোভাযাত্রা বা বিক্ষোভ আয়োজন করাও নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে সংসদ অধিবেশন চলাকালে ওইসব এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচির ক্ষেত্রে পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করার প্রয়োজন হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করাই এ বিশেষ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। অধিবেশন চলাকালে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদেরও সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।