Loading...

  • 25 Aug, 2026
সর্বশেষ

সংসদে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার। সোমবার (২৪ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় কোনো মন্ত্রী সংসদে অনুপস্থিত থাকলে তার পরিবর্তে কে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, সেটিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংসদীয় কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পালন করবেন। তিনি অনুপস্থিত থাকলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারের নতুন এ দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে সংসদে মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী কোনো কারণে সংসদে উপস্থিত থাকতে না পারলেও নির্ধারিত বিকল্প মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানকে। তিনি অনুপস্থিত থাকলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ দায়িত্ব পালন করবেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন আফরোজা খানম। তার অনুপস্থিতিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংসদে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী আন্দালিব রহমানকে। তিনি অনুপস্থিত থাকলে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সংশ্লিষ্ট সংসদীয় দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মন্ত্রী এম রশিদউজ্জামান মিল্লাত। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাচিং প্রুকে। এ দুই মন্ত্রীর যেকোনো একজন অনুপস্থিত থাকলে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বিকল্প হিসেবে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে এর আগে জারি করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ পূর্বের নির্দেশনার যেসব অংশ নতুন আদেশে পরিবর্তন করা হয়নি, সেগুলো আগের মতোই কার্যকর থাকবে।

সরকারের মন্ত্রিসভায় সাম্প্রতিক রদবদলের পর সংসদীয় দায়িত্বের এই পুনর্বণ্টন করা হলো। গত ২১ আগস্ট নতুন চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। তাদের শপথের পর নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টনের পাশাপাশি পুরোনো একজন মন্ত্রীর দায়িত্বও পুনর্বণ্টন করা হয়।

নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়, সে জন্যই নতুন করে দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, বিভিন্ন বিল ও প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা এবং সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদীয় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও নতুন প্রজ্ঞাপনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে আরও দুই মন্ত্রীর নাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় সংসদে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।