Loading...

  • 26 Jul, 2026

অভাব-অনটন দূর করে রিজিকে বরকত আনার ৭ আমল

অভাব-অনটন দূর করে রিজিকে বরকত আনার ৭ আমল

হালাল জীবিকা অর্জন ও রিজিকে বরকত প্রত্যেক মুসলমানের অন্যতম প্রত্যাশা। ইসলাম শিক্ষা দেয়, মানুষের চেষ্টা ও পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রকৃত রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তাই অভাব-অনটন থেকে মুক্তি, জীবনে বরকত এবং মানসিক প্রশান্তি লাভের জন্য কোরআন ও সুন্নাহতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব তাঁর ওপরই ন্যস্ত। আরও বলা হয়েছে, মানুষের রিজিক ও প্রতিশ্রুত কল্যাণ আসমানেই নির্ধারিত। তাই রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই একজন মুমিনের করণীয়।

ইসলামী শিক্ষায় অভাব-অনটন দূর ও রিজিকে বরকত লাভের প্রথম শর্ত হিসেবে তাকওয়া বা আল্লাহভীতির জীবনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যারা তাঁকে ভয় করে চলবে, তাদের জন্য তিনি সংকট থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করবেন এবং এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো বেশি বেশি ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কোরআনে হজরত নুহ (আ.)-এর বর্ণনায় এসেছে, ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহ বৃষ্টি, সম্পদ, সন্তান এবং নানা নিয়ামত বৃদ্ধি করেন। হাদিসেও রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিক দান করেন।

সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়াকেও রিজিকে বরকতের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, পরিবারের সদস্যদের সালাতের নির্দেশ দিতে এবং নিজেও সালাতে অবিচল থাকতে। কারণ রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর, মানুষের নয়।

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সহিহ হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার রিজিক বৃদ্ধি এবং জীবনে বরকত কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে। ইসলামের দৃষ্টিতে পারিবারিক বন্ধন শুধু সামাজিক নয়, বরং বরকতেরও অন্যতম উৎস।

দান-সদকা ইসলামে রিজিক বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। কোরআনে আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, মানুষ তাঁর পথে যা ব্যয় করবে, তিনি তার উত্তম প্রতিদান দেবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও বলেছেন, দান করার কারণে সম্পদ কমে না; বরং আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন।

এ ছাড়া হালাল উপার্জনের ওপর ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, যার খাদ্য, পানীয় ও উপার্জন হারাম, তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই রিজিকে বরকত লাভের জন্য হালাল উপার্জনের বিকল্প নেই।

সবশেষে আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল বা ভরসা রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ চেষ্টা না করে বসে থাকা নয়; বরং সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফলের দায়িত্ব আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া। রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষ যদি আল্লাহর ওপর যথার্থ ভরসা করত, তবে আল্লাহ তাদের এমনভাবে রিজিক দিতেন, যেমন তিনি পাখিদের দেন—তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।

ইসলামী দৃষ্টিতে প্রকৃত সমৃদ্ধি শুধু সম্পদের প্রাচুর্যে নয়; বরং হালাল উপার্জনে বরকত, অন্তরের প্রশান্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই নিহিত। তাই জীবনের সংকটময় সময়গুলোতে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত এসব আমল নিয়মিত পালন করলে আল্লাহর রহমতে অভাব-অনটন দূর হওয়ার পাশাপাশি রিজিকেও বরকত নেমে আসে।