Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

ডারউইন টেস্টে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে দারুণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে তৃতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বড় লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার চারটি উইকেট তুলে নিয়েছে টাইগাররা। দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৬১ রানে ৪ উইকেট। ফলে বাংলাদেশ এখনো ৬৭ রানে এগিয়ে রয়েছে।

তৃতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল প্রথম ইনিংসের লিড যতটা সম্ভব বাড়ানো। আগের দিন ৩৫১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়। দলের লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান। শেষদিকে মেহেদী হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ৬৫ রানের ইনিংস এবং টেলএন্ডারদের কার্যকর ব্যাটিং বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দেয়।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে দলীয় ৩৭ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারায় স্বাগতিকরা। ট্রাভিস হেড ১৭ রান করে বিদায় নেন। এরপর টেস্ট অভিষিক্ত জ্যাক ওয়েদারল্ড রান না করেই সাজঘরে ফেরেন।

প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে স্টিভেন স্মিথ ও মার্নাস লেবুশানে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ৭৩ রানে লেবুশানে ৫৯ বলে ৩১ রান করে আউট হন। তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

এরপর স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে যোগ দেন ক্যামেরন গ্রিন। দুজন মিলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। চতুর্থ উইকেটে তারা ৪৯ রানের জুটি গড়েন। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্মিথকে ফিরিয়ে দেন। ৪৪ রান করে আউট হন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।

স্মিথের বিদায়ের পর অ্যালেক্স ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন ক্যামেরন গ্রিন। দিনের শেষে গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ রানে এবং ক্যারি ৫০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাদের জুটির কারণে দিনের শেষভাগে আর কোনো উইকেট হারায়নি অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ টপ অর্ডারকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বাগতিক ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটাররা ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড এনে দেন।

এর আগে দ্বিতীয় দিনেই বাংলাদেশের হয়ে ইতিহাস গড়েন তানজিদ হাসান তামিম। তিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হন। তাঁর ১০১ রানের ইনিংস এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর গুরুত্বপূর্ণ ৮৪ রান বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে দেয়।

তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখনো জয় নিশ্চিত হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার হাতে ছয়টি উইকেট রয়েছে এবং ক্রিজে থাকা ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছেন। চতুর্থ দিনের শুরুতে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় লিড নেওয়া থেকে আটকানোই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হবে।

অস্ট্রেলিয়াকে যত কম রানে অলআউট করা যাবে, বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ততই বাড়বে। অন্যদিকে স্বাগতিকরা যদি গ্রিন-ক্যারির জুটি দীর্ঘ করতে পারে এবং এরপর নিচের সারির ব্যাটাররা কার্যকর ভূমিকা রাখে, তাহলে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তাই ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিন দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে তিন দিন শেষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে জয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট। ব্যাটিংয়ে বড় লিড, বোলিংয়ে ধারাবাহিক চাপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের বাইরে একটি স্মরণীয় টেস্ট জয়ের সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। এখন সেই সুযোগকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে চতুর্থ দিনে দ্রুত বাকি ছয়টি উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ছোট লক্ষ্য দিতে হবে।

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২২৮ রানের লিড এবং তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার ১৬১/৪ স্কোর—দুই দলের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন ৬৭ রানে এগিয়ে। ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের ওপর।